টিসিবির এক কোটি কার্ডে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে দাবি করে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেছেন, ‘এসব অনিয়ম চিহ্নিত করতে চাই। এরই মধ্যে প্রায় ৫৭ লাখ কার্ড চিহ্নিত করেছি। বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামে আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে দেখতে যাব। আশা করি আগামী চার থেকে ছয় সপ্তাহের মাঝে এখানে স্থিতি নিয়ে আসতে পারব।’
রাজধানীর পুরানা পল্টনে গতকাল ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) আয়োজনে ‘প্রাণ-আরএফএল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাত নিয়ে প্রতিবেদনের জন্য প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের ১০ জন সাংবাদিককে পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে টিসিবির ১৬টি কার্যালয় রয়েছে। গাড়িচালক, দারোয়ানসহ এসব কার্যালয়ে সর্বসাকুল্যে কর্মকর্তা-কর্মচারী ১৪২ জন। প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার বাজেট পায়। যেখানে সরকার ভর্তুকি দেয় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা, যা হাস্যকর বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
শেখ বশির উদ্দিন বলেন, ‘টিসিবি সামাজিক সুরক্ষার জন্য যে খাদ্যপণ্য বিতরণ করে, এটা তাত্ত্বিকভাবে খুবই সুন্দর একটি প্রকল্প। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেভাবে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে, এর একটা প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে টিসিবি।’
সয়াবিন তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা সাধারণ ক্রেতার জন্য কষ্টসাধ্য হলেও বাস্তবতার জন্য দরকার ছিল। এটা না করলে বাজারে ব্যাপক সংকট তৈরি হতো, ঘাটতি বেড়ে যেত। আমরা অন্য কোনো পণ্যের দাম কমিয়ে সেটা সমন্বয়ের চিন্তা করছি।’
তেল ও চিনি আমদানির ক্ষেত্রে মুষ্টিমেয় কয়েকজন কাজ করেন জানিয়ে শেখ বশির উদ্দিন বলেন, ‘এর মধ্যে সর্ববৃহৎ যিনি, তিনি দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন। তিনি পালিয়ে যাওয়ার কারণে সরবরাহে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, বাজারে সে তুলনায় প্রতিক্রিয়া টের পাওয়া যাচ্ছে না।’
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘ভুল তথ্য শুধু বাইরের থেকে আসছে, তা নয়। আমাদের সাংবাদিকরাও অনেক সময় ব্যর্থ হচ্ছে তথ্যগুলোকে ঠিকভাবে জোগান দিতে। দেশে মূল্যস্ফীতির হার এখনো দুই অংকের ঘরে, এটা ঠিক; কিন্তু অনেক জিনিসের দাম আগের তুলনায় কমছেও। প্রতি রাতে যে টক শো হয়, যে সংবাদ প্রচার হয়, সেখানে কিন্তু এ বিষয়গুলো দেখা যাচ্ছে না। এসব ক্ষেত্রে একধরনের সরলীকরণ করা হচ্ছে।’
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘পণ্যের দাম ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য কৃষি খাতকে আরো শক্তিশালী করতে আমাদের ভ্যালু অ্যাডেড কৃষিপণ্যের দিকে নজর দিতে হবে। কারণ আমাদের জায়গা কম। রাশিয়া-ইউক্রেনের মতো বড় বড় দেশ শস্য উৎপাদন করবে, আমাদের থাইল্যান্ড-ভিয়েতনামের মতো ভ্যালু অ্যাডেড শস্য উৎপাদন করতে হবে।’
ইআরএফের সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মীরধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ, ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমসহ সংশ্লিষ্টরা।